সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বাণিজ্যমন্ত্রী

এলডিসি উত্তরণ পেছানোর উদ্যোগ নেবে নতুন সরকার

নতুন সরকার স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছেন নতুন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

নতুন সরকার স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা পিছিয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছেন নতুন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, ‘এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ বিষয়ে নতুন সরকার এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে।’

মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর গতকাল সচিবালয়ে প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম ও বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘সরকার এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ডেফার করতে চায়। এ লক্ষ্যে যা যা করা দরকার, তার সবই করা হবে। বিষয়টি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করা হয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেয়া হবে।’

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দাবির বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণ পেছানোর বিষয়টিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রথম সপ্তাহেই চিঠি দিতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও সরকার আজ থেকেই এ নিয়ে কাজ শুরু করেছে।’

রফতানির সাম্প্রতিক নিম্নগতি প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে দেশের মোট রফতানির প্রায় ৮৫ শতাংশই একটি মাত্র পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে রফতানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে, নতুন পণ্য যুক্ত করতে হবে এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে জোর দিতে হবে। একই সঙ্গে বিনিয়োগে আগ্রহী বেসরকারি খাতকে সহায়তা দেয়া হবে।’

রমজানে বাজারদর নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে বাজারও স্থিতিশীল থাকবে। রমজান মাস এবং এর পরবর্তী সময়ের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ সরকারের হাতে রয়েছে এবং পাইপলাইনেও পর্যাপ্ত পণ্য আছে।’ এ অবস্থায় বাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বৈদেশিক ও দেশীয় বিনিয়োগ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অনিশ্চয়তার মধ্যে কোনো বিনিয়োগ আসে না। বিনিয়োগের প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো একটি স্থিতিশীল পরিবেশ। বিনিয়োগকারীরা তখনই বিনিয়োগ করেন, যখন তারা নিশ্চিত হন যে তাদের পুঁজি ও শ্রমের বিপরীতে প্রত্যাশিত রিটার্ন পাওয়া যাবে।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার পর খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি সরকারের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের জন্য কর্মকর্তাদের কাজের গতি বাড়ানোর আহ্বান জানান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের হাতে অনেক কাজ, নষ্ট করার মতো সময় আমাদের হাতে নেই। সময় নষ্ট করার জন্য দেশের মালিকরা (জনগণ) আমাদের এখানে পাঠাননি।’

তিনি বলেন, ‘যে মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে আমরা বসে আছি সেটার সেনসিটিভিটি আপনাদের বুঝিয়ে বলতে হবে না, আপনারা সবাই জানেন। আমি নিশ্চিত বাজারে কোনো পণ্যের দাম বাড়লে তার আঁচ আপনার পরিবারে আসে, আপনাদের গায়েও লাগে। এ কারণেই এটার সেনসিটিভিটি অনেক বেশি।’

আরও